New Airports in West Bengal: উড়ান প্রকল্পে রাজ্যে আরও চার নতুন বিমানবন্দর, কেন্দ্রকে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমানের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর

new airports in west bengal under uddan scheme suvendu adhikari requested for direct Kolkata europe flight

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পে চারটি নতুন বিমানবন্দর (New Airports in West Bengal) তৈরি করতে উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘরে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং রাজ্যের পরিবহণ দফতরের মধ্যে এই মর্মে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু জানান, দু’বছরের মধ্যে এই চার এয়ারপোর্ট — পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং বায়ুসেনার অধীনে কলাইকুন্ডা ও হাসিমারা থেকে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট যাতায়াত শুরু হবে। নায়ডুর কাছে কলকাতা–লন্ডন এবং ইউরোপের অন্যান্য শহরে সরাসরি উড়ান চালুর অনুরোধ জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

রাজ্যের চার প্রান্তে চার বন্দর

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে এয়ারপোর্টের সংখ্যা বাড়েনি। নতুন সরকার আসার পরে দ্রুত গতিতে সেই কাজ এগোচ্ছে। শুভেন্দু জানান, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডায় রানওয়ে আছে। সেখান থেকে বায়ুসেনার বিমান নিয়মিত ওঠানামা করে। মুখ্যমন্ত্রী জানান ওখান থেকে বোয়িং এবং এয়ারবাস-এর বিমান স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করতে পারে। শুধু টার্মিনাল বিল্ডিং এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় ২৫ এবং ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য। সেনা প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে। বালুরঘাটে এখন ছোট বিমান ওঠানামা করতে পারে। সেখানে পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। পুরুলিয়ায় ছড়রায় শূন্য থেকে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে।

সাধারণের জন্য সরাসরি লন্ডন

একটা সময়ে কলকাতা থেকে ইউরোপের একাধিক শহরে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। রাজ্যের বক্তব্য, কলকাতাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো প্রয়োজন। কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপের অন্যান্য শহরেরও ফ্লাইট নেই। কলকাতা থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের সংখ্যাও কম। এদিন শুভেন্দু রামমোহন নায়ডুর হাতে একটি আবেদনপত্র তুলে দিয়ে লন্ডন এবং ইউরোপে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আবেদন জানান। নায়ডু বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মতো ইউরোপে ডাইরেক্ট ফ্লাইটের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে অনুরোধ করব।’

কলকাতার দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট

কলকাতা থেকে প্রধানত ডোমেস্টিক সেক্টরে নিয়মিত যাত্রী বাড়ছে। বর্তমান টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা আর কয়েক বছরের মধ্যে নিঃশেষিত হওয়ার কথা। প্রয়োজন শহরের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দ্বিতীয় বিকল্প বিমানবন্দর। শুভেন্দু সোমবার বলেন, ‘আগের বিমানমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন জমি দেওয়া যাবে না। আমরা কল্যাণীতে জমি চিহ্নিত করেছি। সেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, মাটি পরীক্ষা-সহ সবরকম কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সেই জমি তৈরি হয়ে যাবে।’ কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রায় ২০০০ একর জমি চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জানান, বাংলায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য রাজ্যকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানবন্দরের জমি নিয়ে জটিলতা কাটাতে ও পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ হবে। রানওয়ে সংস্কার, টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে নজর দেওয়া হবে। বিমানবন্দরের প্রযুক্তিগত দিক দেখবে কেন্দ্রীয় সরকার।

উড়ান-২ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ

উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক)– ২.০ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ। বালুরঘাট, হাসিমারা–সহ রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে এই প্রকল্পে ফ্লাইট চালালে ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। আশা করা হচ্ছে, ওই প্রকল্পের সুবিধে নিয়ে রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালাবে। ২০১৬ সালে চালু হয় কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্প। লক্ষ্য ছিল দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিমানযাত্রা নিয়ে আসা। পশ্চিমবঙ্গও এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরিতে উদ্যোগী হয়। হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আগে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েন ছিল। বর্তমান সরকারের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ওই দুই জায়গায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জমির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুরঘাট ও পুরুলিয়াতেও জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলিতে উড়ান প্রকল্পের আওতায় ৭২ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির গুরুত্ব

প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির ফলে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ সহজ হবে। শিল্প, পর্যটন এবং বাণিজ্যের প্রসারেও এই বিমানবন্দরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে নবান্ন। নবান্নের আধিকারিকদের একাংশের মতে, শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, নতুন বিমানবন্দরগুলি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দরজা খুলবে। কৃষিজাত পণ্য, চা, ফুল, হস্তশিল্প এবং শিল্পপণ্যের দ্রুত পরিবহণে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য বাণিজ্যকেন্দ্রের যোগাযোগ বাড়লে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। পর্যটনের ক্ষেত্রেও হাসিমারা, পুরুলিয়ার মতো এলাকার গুরুত্ব রয়েছে। ফলে উড়ান প্রকল্পের এই পর্বকে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share