China: কয়লাখনিতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে চিনে হত অন্তত ৯০, কী বলছেন স্থানীয়রা?

China coal mine explosion over 50 killed

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লাখনিতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে (Coal Mine Explosion) মৃত অন্তত ৯০ জন। মধ্য চিনের (China) শানসি প্রদেশের ঘটনা। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ বেজিং থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কিনইউয়ান কাউন্টির লিউশেনইউ কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের আগে খনিতে কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতির ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১২৩ জন জীবিত উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ৩৩ জন বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।

ধোঁয়ার মেঘ, সালফারের কটু গন্ধ (China)

আহত খনি শ্রমিক ওয়াং ইয়ং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিকে জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি কোনও শব্দ শোনেননি। তবে ধোঁয়ার মেঘ দেখেছিলেন, সালফারের গন্ধও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এটা ঠিক বিস্ফোরক ফাটানোর মতো। আমি সবাইকে দৌড়তে বলি। আমরা দৌড়নোর সময় দেখি ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় একে একে মানুষ পড়ে যাচ্ছে। এরপর আমিও অজ্ঞান হয়ে যাই।” ওয়াং জানান, ঘণ্টাখানেক পরে তাঁর জ্ঞান ফেরে। এরপর তিনি অন্য শ্রমিকদের জ্ঞান ফিরিয়ে একসঙ্গে খনি থেকে বেরিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ মানুষই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের উচ্চচাপ অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। কিনইউয়ান পিপলস হাসপাতালের তরফে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের জন্য সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং করানোর জন্য পরামর্শদাতাও নিয়োগ করা হয়েছে (China)।

বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ

এক চিকিৎসাকর্মী সংবাদ মাধ্যমে জানান, অধিকাংশ মৃত্যুরই কারণ ছিল বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ (Coal Mine Explosion)। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাই গ্রামবাসীদের একাংশ বাড়ি থেকে বের হতে বা ঢুকতে পারছেন না। বেজিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনিটিতে তিনটি শিফটে কাজ হত। দুর্ঘটনার সময় মধ্য-শিফটের শ্রমিকরা ভূগর্ভে ছিলেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেন ৪০০-রও বেশি কর্মী। এর মধ্যে সাতটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমও ছিল। উদ্ধারকারীরা জানান, খনির গভীরতা এবং খাড়া ঢালের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। কারণ আহত শ্রমিকদের ওপরে তুলে আনাটা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। তাঁদের আশঙ্কা, বিস্ফোরণের পর জলস্তর বেড়ে যাচ্ছিল। এটি পাইপলাইন বা পাম্পিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত হতেও পারে (China)। আরও একটি সমস্যা ছিল, খনির মালিকদের দেওয়া নকশা ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সঙ্গে মিলছিল না। তাই উদ্ধারকারীদের নয়া পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়।

বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

প্রাথমিক প্রতিবেদনে মাত্র আটজন নিহতের কথা বলা হলেও, পরে হঠাৎই বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। যদিও এর কোনও কারণই জানানো হয়নি। প্রসঙ্গত, গত বছরই খনিটি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য দুটি প্রশাসনিক শাস্তি পেয়েছিল। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল জরুরি স্টপ মেকানিজমের ত্রুটি এবং ধসে পড়া ছাদের এলাকায় যথাযথ সাপোর্ট না দেওয়া (Coal Mine Explosion)। কোম্পানিটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে কাজ করতেন ১,৭০০-রও বেশি কর্মী। চাংশি মিউনিসিপাল এনার্জি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, খনিটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১২ লাখ টন কয়লা। এটি একটি ‘হাই-গ্যাস মাইন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এর অর্থ হল, খনিটিতে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস রয়েছে (China)।

ভয়াবহ কয়লাখনি দুর্ঘটনা

উল্লেখ্য, গত এক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ কয়লাখনি দুর্ঘটনা। যদিও চিন খনিগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করেছে, তবুও নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping) উদ্ধারকারীদের সব রকম চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেন। এও জানান, দুর্ঘটনার জন্য দোষীদের জবাবদিহি করা হবে। তিনি বলেন, “সব অঞ্চল ও বিভাগকে এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে (Coal Mine Explosion)। বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঝুঁকি ও গোপন বিপদ দূর করতে হবে (China)।”

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share