মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ সংক্রান্ত মামলার (DA Case) রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ রায় ঘোষণা (Supreme Court) করে জানিয়ে দিল বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এখনই মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। এজন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
২৫ শতাংশ ডিএ (DA Case)
জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে মেটাতে হবে ২৫ শতাংশ ডিএ। ১৫ মে মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে এ সংক্রান্ত রিপোর্টও। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এহেন নির্দেশে যে খানিক বিপাকে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার, তা বলাই বাহুল্য। প্রসঙ্গত, ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। তার পর থেকে রায়দানের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন সরকারি কর্মীরা। এর প্রায় চার মাস পর শেষমেশ রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সেই সময় কেন্দ্রীয় হারে ৩১ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। তার পর থেকে মামলা ঝুলেছিল সুপ্রিম কোর্টে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানি শেষ হয়। রায় হল আজ, বৃহস্পতিবার।
শীর্ষ আদালতের রায়
উল্লেখ্য যে, গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে বকেয় ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত প্রথমে জানিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। সেই সময় রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান (Supreme Court), ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে রাজ্য চালানোই দায় হয়ে উঠবে। তখন আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে অন্তত ২৫ শতাংশ ডিএ দিতেই হবে (DA Case)। অর্থাৎ, ২০০৮ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিএ বকেয়া ছিল, তার ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল রাজ্য
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএ দিতে না পারায় ফের একবার আদালতের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চায় রাজ্য। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই শুনানি শুরু হয়েছিল ৪ অগাস্ট থেকে। ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয় শুনানি। এদিন আগের সেই রায়ই বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, রোপা রুল অনুযায়ী ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নয়া কমিটি গঠনের কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি। এই কমিটিই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে। সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে এই ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যকে দিতে হবে ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএর ফারাক
জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা (Supreme Court) ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। আর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ডিএ পান ৫৮ শতাংশ হারে। ফারাক ৪০ শতাংশের (DA Case)। এই গোটা মামলায় মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন নিয়ম। বাংলার নিয়ম ছত্তিশগড়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ ২০১০ সাল পর্যন্ত নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করেছে। এর পর ২০১০ সালের নীতি থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্য সরকার যে নিয়মে চলত, এখন তা অনুসরণ করা হয় না। ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট যে তাঁদের যুক্তি সমর্থন করেছে, তাও জানিয়েছেন বিকাশরঞ্জন। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, আজ বিচারপতিরা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছে, ডিএ দিতে হবে। কর্মচারীদের জয় হয়েছে। ২৫ শতাংশ এরিয়ার-সহ ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খানিকটা স্বস্তিতে রাজ্য সরকারের কর্মীরা। রায় ঘোষণার পরেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, এরপরও যদি রাজ্য সুপ্রিম (Supreme Court) নির্দেশ কার্যকর না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে (DA Case)।

Leave a Reply