মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”
প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন
সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

Leave a Reply