মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মানুষের পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুলভ মূল্যের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর পরিকাঠামো ও খাদ্যতালিকায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেক্য মা আহার (Maa Aahaar) নামে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। মিলবে মাছ (Fish Meal), ডিম ও সবজি ভাতের ব্যবস্থাও।
নামকরণ ও পরিধি সম্প্রসারণ (Maa Aahaar)
- ● নতুন নামকরণ: প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সর্বজনীন করতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar)।
- ● কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯০টি কেন্দ্র পরিচালিত হতো। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এক ধাক্কায় আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০-তে।
মেনুতে পুষ্টির ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য
সাধারণ মানুষের প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে খাবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পেটভরা মধ্যাহ্নভোজনের এই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:
- ● সপ্তাহে ২ দিন: ডিম-ভাত।
- ● সপ্তাহে ২ দিন: মাছ-ভাত (Fish Meal) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে।
- ● বাকি দিনগুলো: সম্পূর্ণ নিরামিষ, তবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা
পূর্বতন সরকারের আমলে ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে, জনকল্যাণমুখী কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বিস্তার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও পুষ্টিকর করে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar) রূপে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই নবান্নের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা (Fish Meal) সুনিশ্চিত করার এই মানবিক বার্তাও দেওয়া হলো।

Leave a Reply