মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিলজলার ঘটনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অবৈধ নির্মাণের (Illegal Construction) ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেই সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যত এই ধরনের বিল্ডিং আছে, যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, সেই সব কারখানা, বিশেষ করে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর, একবালপুর-সহ এলাকাগুলিতে দ্রুত ইন্টারনাল অডিট করা হবে। প্ল্যানের অনুমোদন না থাকলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ডিসকানেক্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ
মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একদিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য। কলকাতা পুরসভার (KMC) উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। কেএমসি-কেও বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ, বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন কেটে দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে হাঁটবে সরকার। শুভেন্দুর বার্তা, ‘যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান। যাঁরা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদের আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দিচ্ছি।’ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। আলাদা করে উল্লেখ করেছেন কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো এলাকার কথা।
কঠোর প্রশাসনিক বার্তা
উল্লখ্যে, মঙ্গলবার তিলজলায় একটি চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দু’জনের মৃত্যু হয়। তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। মঙ্গলবারের ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি রিপোর্ট তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি জানান, ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। পুরোপুরি অবৈধ ওই কারখানা। কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ— এই দুই ইস্যুতেই নতুন সরকার শুরু থেকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছে। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত থেকেই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কী বললেন অগ্নিমিত্রা
রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যে অবৈধ ভবনগুলির ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকদের প্রথমে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেও নিয়ম না মানলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করা হবে। তিনি আরও জানান, তপসিয়ার ওই ভবনটিতে সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে, সেখান থেকে লোকজন নামতে পারেননি। পিছন দিকে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

Leave a Reply