Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

Rain in Kolkata

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতি থেকে শুক্র একটানা বৃষ্টিতে ভিজল শহর কলকাতা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে। ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক রাস্তাঘাট। খুব শীঘ্র এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই, জানিয়ে দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আরও অন্তত চার দিন কলকাতায় এমন বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণের ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি চলতে পারে। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে শহরে যান চলাচলের গতি ধীর। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম, সেক্টর ৫ মেট্রোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমেছে জল।

কেন এই অঝোরে বৃষ্টি

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। তার প্রভাবে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো বাতাস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এই দুইয়ের টানে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা

বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বৃষ্টির সতর্কবার্তা (Rain Alert) জারি করা হয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বেশ বোঝা গেল বৃষ্টির দাপট। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। তারপর কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে রাতভর মুষলধারায় বৃষ্টি চলতে থাকে। কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় বৃষ্টির প্রবল দাপট জারি আছে সকালেও। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে শহরে। একই পূর্বাভাস হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে।  শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৯৬.৬ মিলিমিটার, আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৬.৭ মিলিমিটার। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম।

টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা

রাতভর টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা (Kolkata)। শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়ায় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া, সকলেরই নিত্যযাত্রায় বিঘ্ন ঘটেছে প্রবল বর্ষণের জেরে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়ার মতো এলাকাতেও গোড়ালি সমান জল জমেছে। এর ফলে শহরের প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সাঁতরাগাছিতে নতুন রেল সেতুর কাজের জেরে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে একটি ট্রাক খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাওড়ামুখী লেনে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে ছিল। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার ও এজেসি বোস রোডেও গাড়ির সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। আধ ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে সময় লাগছে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা। প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জল নিকাশির জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি, শহরে বড় ধরনের জলজমার কোনো খবর নেই এবং যান চলাচল মোটের ওপর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টির তোড় না কমলে দিনভর এই দুর্ভোগের রেশ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে শুক্রবারের বৃষ্টিতে নাজেহাল মহানগরী।

দিঘার সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা

উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। ১২ই জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য। মাইকিং করে সতর্ক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দিঘার সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। তৈরি হতে পারে জলোচ্ছ্বাস। সমুদ্র ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দিঘা, দিঘা মোহনা, মন্দারমণি সহ উপকূল মাইকিং করা হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা 

দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় প্রতি দিনই ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে এই জেলাগুলিতে। বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামেও।

জল বাড়ছে দক্ষিণের নদীগুলিতে

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে সুবর্ণরেখা নদী। জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুবর্ণরেখার প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। ফলে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী-সহ হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা অন্যদিকে, অজয় নদীর জল বাড়লেই প্রত্যেকবার বর্ষায় প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম। বিগত প্রায় ২০ বছরে বাঁধে নতুন করে মাটি পড়েনি। কোথাও বাঁধের উচ্চতা কমে গিয়েছে, কোথাও আবার ভাঙা অংশ আজও মেরামত হয়নি। ফলে বর্ষাকালে নদীর জল বাড়লেই বাঁধ উপচে বা ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত হয় গ্রাম। এবারও সেই আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

অতি ভারী বৃষ্টি উত্তরবঙ্গেও

অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গেও। কোচবিহারে ১৪৩ মিমি ও আলিপুরদুয়ারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) চলতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়বে। ধসও নামতে পারে পাহাড়ি রাস্তায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share