মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশে’র সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও মজবুত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে।
বাজেটে বিশেষ জোর (Budget 2026)
এই বাজেটে পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাত সংস্কার, রাজস্ব সংহতি এবং বাজারের গভীরতার (market deepening) ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নীতিগত ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সীতারামনের বাজেট বক্তৃতার প্রধান দিকগুলি হল, পরিকাঠামোকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অর্থমন্ত্রী ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেন। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা। ক্রিসিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি, যা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবহণ খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে সাতটি নয়া হাই-স্পিড রেল করিডরের কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এগুলি হল, মুম্বই–পুণে, পুণে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, দিল্লি–বারাণসী এবং বারাণসী–শিলিগুড়ি। এই করিডরগুলির লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণে উৎসাহ দেওয়া এবং শহরগুলির মধ্যে সংযোগ আরও মজবুত করা।
ভারতের বন্ড বাজার
ভারতের বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে কর্পোরেট বন্ড সূচকের ওপর তহবিল ও ডেরিভেটিভ ব্যবহারের সুযোগ-সহ একটি মার্কেট-মেকিং কাঠামোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে এবং সংস্থাগুলির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Budget 2026)। ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যাঙ্কিং কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে আগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করবে (Nirmala Sitharaman)। বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের লক্ষ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত এনআরআই বিনিয়োগ সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগ সীমা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।
বন্ড বাজার সংস্কার
অর্থমন্ত্রী রাজস্ব শৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Budget 2026)। তুলনায়, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে সংশোধিত অনুমান ছিল ৪.৪ শতাংশ। এই ধাপে ধাপে ঘাটতি কমানোর রূপরেখা প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ইঙ্গিত দেয়। কর সংক্রান্ত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে অপশন ট্রেডিংয়ের ওপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব ডেরিভেটিভস ব্যবসায়ীদের ওপর পড়তে পারে, তবে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে (Nirmala Sitharaman)। বন্ড বাজার সংস্কার এবং এনআরআই বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলি ভারতীয় আর্থিক বাজারকে আরও গভীর, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ (Budget 2026)।
মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ২০২৬ সালের বাজেটে বড় কোনও নীতিগত পরিবর্তনের বদলে ধারাবাহিকতা ও পরিমিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকার পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক সম্প্রসারণ, রাজস্ব সংহতি এবং আর্থিক খাত শক্তিশালী করার পথ বেছে নিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্মলা সীতারামনের নবম বাজেট উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সতর্কতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিকাঠামো, বাজার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে ভারতের মধ্যমেয়াদি (Nirmala Sitharaman) প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে (Budget 2026)।

Leave a Reply