মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে থাকা রেলের ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর জন্য রেলওয়েকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রশাসন থাকায় দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটানো এখন অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে এবং সাধারণ মানুষ খুব শীঘ্রই তার সুফল পাবেন।
দিনাজপুর থেকে মেদিনীপুর— ৬১টি রেল প্রকল্প
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে থাকা ৬১টি প্রকল্পের মধ্যে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রেল প্রকল্প এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ প্রকল্পও রয়েছে। এতদিন জমি সমস্যার কারণে এই কাজগুলি কার্যত থমকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের গতিকে দ্বিগুণ করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হবে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করলেই বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সেই পথেই ‘উন্নত ভারত’-এর স্বপ্ন সফল হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৯২ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাজ্য সরকারের জমি হস্তান্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই বিপুল বিনিয়োগের প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত এগোবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত?
একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) গলাতেও। তিনি বলেন, “রাজ্যে ৬১টি প্রকল্প জমির অভাবে আটকে ছিল। এখন আর কোনও বাধা থাকবে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই সহজ হবে।” শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি “পশ্চিমবঙ্গের নতুন রূপকার” বলেও উল্লেখ করেন। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউষ্কর জানান, চন্দনপুর-শক্তিগড় ফোর্থ লাইন, কল্যাণী-রানাঘাট থার্ড লাইন এবং রানাঘাট-বনগাঁ ডবল লাইনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এছাড়াও বহু জায়গায় লেভেল ক্রসিং তুলে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজও থমকে ছিল। এখন রাজ্য ও রেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই কাজ দ্রুত এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে রেলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান পূর্ব রেলের জিএম।
তালিকা নিয়ে তুমুল জল্পনা…
তবে এখনও পর্যন্ত ঠিক কোন কোন প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সম্ভাব্য রেল প্রকল্পের তালিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় নতুন রেললাইন, ডবল লাইন, স্টেশন উন্নয়ন ও ফ্লাইওভার নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও রেলমন্ত্রক বা রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত ৬১টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে একটি সম্ভাব্য তালিকা—
- ১. পাঁশকুড়া – ঘাটাল নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৩২.৮ কিমি)
- ২. কাঁথি – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৬.২ কিমি)
- ৩. দেশপ্রাণ – নন্দীগ্রাম নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ১৮.৫ কিমি)
- ৪. নন্দীগ্রাম – কেন্দামারী (নয়াচর) নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৭ কিমি)
- ৫. নন্দকুমার – বলাইপন্ডা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
- ৬. দিঘা – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
- ৭. দিঘা – জলেশ্বর নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৪৯ কিমি)
- ৮. ঘাটাল – ইরপালা নতুন লাইন
- ৯. ইরপালা – আরামবাগ নতুন লাইন
- ১০. আরামবাগ – বোয়াইচন্ডী নতুন লাইন
- ১১. আরামবাগ – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
- ১২. বোয়াইচণ্ডী – খানা নতুন লাইন
- ১৩. হাসনাবাদ – হিঙ্গলগঞ্জ নতুন লাইন
- ১৪. তারকেশ্বর – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
- ১৫. তারকেশ্বর – ধানিয়াখালি নতুন লাইন
- ১৬. তারকেশ্বর – মগরা নতুন লাইন
- ১৭. তারকেশ্বর – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
- ১৮. নামখানা – চন্দ্রনগর নতুন লাইন
- ১৯. চন্দ্রনগর – বকখালি নতুন লাইন
- ২০. কাটোয়া (দাঁইহাট) – মন্তেশ্বর নতুন লাইন
- ২১. মন্তেশ্বর – মেমারী নতুন লাইন
- ২২. বজবজ – পূজালী নতুন লাইন
- ২৩. পূজালী – উলুবেড়িয়া (বীর শিবপুর) নতুন লাইন
- ২৪. পূজালী – বাকরাহাট নতুন লাইন
- ২৫. মছলন্দপুর – স্বরূপনগর নতুন লাইন
- ২৬. নেগুন – মঙ্গলকোট নতুন লাইন
- ২৭. বনগাঁ – চন্দবাজার নতুন লাইন
- ২৮. বারাবনি – চুরুলিয়া নতুন লাইন
- ২৯. ভাঙ্গনখালী – বাসন্তী নতুন লাইন
- ৩০. বাসন্তী – ঝাড়খালি নতুন লাইন
- ৩১. জয়নগর – রায়দিঘী নতুন লাইন
- ৩২. সংগ্রামপুর – কৃষ্ণচন্দপুর নতুন লাইন
- ৩৩. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – বাখরাহাট নতুন লাইন
- ৩৪. ডানকুনি – জঙ্গলপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
- ৩৫. বড়গাছিয়া – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
- ৩৬. আমতা – বাগনান নতুন লাইন
- ৩৭. জঙ্গিপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
- ৩৮. বাঁকুড়া (ছাতনা) – মুকুটমণিপুর নতুন লাইন
- ৩৯. মুকুটমণিপুর – উপারসোল নতুন লাইন
- ৪০. বাঁকুড়া (কলাবতী) – পুরুলিয়া ভায়া হুড়া নতুন লাইন
- ৪১. রায়গঞ্জ – ইটাহার নতুন লাইন
- ৪২. কাজল – ইটাহার নতুন লাইন
- ৪৩. কালিয়াগঞ্জ – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
- ৪৪. প্রান্তিক – সিউড়ি নতুন লাইন
- ৪৫. কাকদ্বীপ – বুধাখালি নতুন লাইন
- ৪৬. ময়নাপুর – কামারপুকুর ভায়া বীরসা নতুন লাইন
- ৪৭. কালিকাপুর – মিনাখান ভায়া ঘটকপুর নতুন লাইন
- ৪৮. কৃষ্ণনগর সিটি (ধুবুলিয়া) – চারাতলা নতুন লাইন
- ৪৯. কৃষ্ণনগর – চাপড়া নতুন লাইন
- ৫০. বনগাঁ – পরমহেশতলা নতুন লাইন
- ৫১. চন্দবাজার – বাগদা নতুন লাইন
- ৫২. চৌরীগাছা – সাঁইথিয়া ভায়া কান্দি নতুন লাইন
- ৫৩. জয়নগর – দুর্গাপুর নতুন লাইন
- ৫৪. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – কুলপি নতুন লাইন
- ৫৫. রানাঘাট (আঙড়ঘাটা) – দত্তফুলিয়া নতুন লাইন
- ৫৬. বিরা – চাকলা নতুন লাইন
- ৫৭. বারুইপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
- ৫৮. ভাদুতলা – ঝাড়গ্রাম ভায়া লালগড় নতুন লাইন
- ৫৯. মুকুটমণিপুর – ঝিলিমিলি নতুন লাইন
- ৬০. ইটাহার – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
- ৬১. রাধানগর ফাইডিং লাইন – বরাচক লাইন

Leave a Reply