Kiren Rijiju: গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘিরে রাহুলকে নিশানা, “পরিবেশের অজুহাতে উন্নয়ন আটকে দেওয়ার চেষ্টা”, তোপ রিজিজুর

rahul-gandhi-scuba-diving-visit-used-to-oppose-great-nicobar-project- kiren-rijiju

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রেট নিকোবর দ্বীপের বহুচর্চিত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ফের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (Great Nicobar Project) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রাহুলের স্কুবা ডাইভিং সফরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে পরিবেশগত উদ্বেগের প্রচার চালানো হয়েছে।

রাহুলের স্কুবা ডাইভিং সফরে ব্যয় ২৬ কোটি! (Kiren Rijiju)

রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধীর স্কুবা ডাইভিং সফরের জন্য প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সেই সফর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত উদ্বেগের সঙ্গে গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন প্রকল্পকে যুক্ত করে জনমত গঠনের চেষ্টাও করা হয়।” মন্ত্রীর দাবি, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের বিরোধিতা প্রকৃতপক্ষে পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়। তাঁর মতে, পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগকে সামনে রেখে এমন একটি প্রকল্পের কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তিনি বলেন, “দেশে বড় ধরনের পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠী কাজ করে। তারা পরিবেশগত ইস্যু তুলে ধরে জনমত তৈরি করে, চেষ্টা করে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়ার।” রিজিজু বলেন, “ভারতের পরিবেশ সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর এবং কোনও সরকার ইচ্ছেমতো বনাঞ্চল, সামুদ্রিক পরিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে না। প্রতিটি বড় প্রকল্পই প্রয়োজনীয় পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়।”

রাহুলকে নিশানা মন্ত্রীর

তাঁর দাবি, প্রকল্পের সমালোচকেরা অনেক অভিযোগ তুললেও, তার পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। শুধু তাই নয়, প্রকল্পে যে পরিবেশগত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটিও তাঁরা উপেক্ষা করছেন। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের ফলে দ্বীপের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে— এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছেন রিজিজু। বলেন, “শম্পেন, নিকোবারিজ, গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া এবং সেন্টিনেলিজ-সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Great Nicobar Project)।” তাঁর বক্তব্য, অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে এই সম্প্রদায়গুলির জীবনযাত্রায় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, ভবিষ্যতেও তাদের অধিকার ও সংস্কৃতি সুরক্ষিত রাখা হবে (Kiren Rijiju)। রিজিজুর মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ, আদিবাসী কল্যাণ, শিল্পোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন— এই চারটি বিষয় একসঙ্গেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। রাহুলকে সরাসরি নিশানা করে রিজিজু বলেন, “উনি শুধুমাত্র বৃহত্তর একটি ‘ইকোসিস্টেমে’র অংশ, যারা জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের বিরোধিতা করে।” মন্ত্রীর দাবি, বাঁধ, জাতীয় সড়ক, খনি বা অন্যান্য বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। পরিবেশ রক্ষার নামে মামলা, আন্দোলন এবং প্রচারাভিযান চালিয়ে প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

ব্লু ইকোনমি

সাক্ষাৎকারে ভারতের সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজিজু। বলেন, “দেশের ‘ব্লু ইকোনমি’কে শক্তিশালী করতে সমুদ্রভিত্তিক সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন (Kiren Rijiju)।” কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডিপ ওশান মিশনে’র উল্লেখ করেন মন্ত্রী জানান, ভারত বর্তমানে সমুদ্রের প্রায় ৫,০০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা অর্জনের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। ভারত মহাসাগরের খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের অনুসন্ধান দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করবে (Great Nicobar Project)।

বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী হিসেবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান রিজিজু। বলেন, “সরকারের সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, এবং আমি একে স্বাগত জানাই।” তবে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার না করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। রাহুলের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা উচিত। রিজিজুর কথায়, “গণতন্ত্রে মতবিরোধ স্বাভাবিক (Great Nicobar Project)। কিন্তু দেশের অগ্রগতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলির সহযোগিতামূলক মনোভাবও থাকা প্রয়োজন (Kiren Rijiju)।”

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share