Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

suvendu adhikari lay foundation of steel plant in purulia said bjp govt do best for industries in bengal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্পায়নের আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পুরুলিয়ায়। সোমবার ‘অমিত মেটালিকস’ কোম্পানির ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই কারখানা থেকে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এদিন। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে বলেই আশা করনে শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যাবাসীর কাছে এক বছর সময় চেয়ে নেন। তার মধ্যেই কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় নিলেন

পুরুলিয়ার সভা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হবে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হলে আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব। বলব পারলাম না। আপনারাই বলবেন ভুল লোককে ঠিক করিনি। সঠিক লোককে সঠিক দলকে এনেছি। বিশ্বাস-ভরসা রাখুন। সময় দিন।” তিনি আবারও বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণ করব। আমরা বদ্ধপরিকর।”

ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু

সোমবার পুরুলিয়ায় পরপর দুটো কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে মানবাজারে জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে রঘুনাথপুরে তিনি একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ওই ইস্পাত কারখানায় প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়নের জন্য আমরা সবরকম সাহায্য করব।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “আমরা জোর করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। ল্যান্ড পুলিং পলিসি চালু করেছি। চাষিদের থেকে জমি নিয়ে ল্যান্ড ডেভলপমেন্টও চালু করব।”  শিল্পায়নের লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন শিল্প নীতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তৈরি হবে ল্যান্ড ব্যাঙ্কও। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সরকার করবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পের জন্য তুলে দেওয়া হবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে ওয়ান উইন্ডো সিস্টেমে যাবতীয় কাজ হয়ে যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ— কোথাও যেতে হবে না।

ভিন রাজ্যে যাবেন না

পেটের টানে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-সহ জঙ্গলমহলের প্রচুর মানুষ ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে চলে গিয়েছেন। তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন। শিল্পে ভরিয়ে দেব।” রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী করছে সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্য়মন্ত্রী। অমিত মেটালিকসের ইন্টিগ্রেড গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ফেরো এলয় এবং স্পঞ্জ আয়রন রয়েছে। ১৪৮ একর জমির উপর ওই প্রকল্প গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে।

৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু

সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কিল ট্রেনিং সেন্টার, অটোমোবাইল ক্ষেত্র এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ১,০০০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অদক্ষ কর্মী হিসেবে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিএসআর-এ স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার কাছে কত টাকার বিনিয়োগ হলো সেটা বিচার্য নয়, কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের জমি রয়েছে, পরিকাঠামো রয়েছে, রঘুনাথপুরের পাশে জাতীয় সড়কের কানেক্টিভিটি আছে, চরৈবেতি মন্ত্রে আমরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছি।’

আশার আলো দেখছেন বঙ্গবাসী

গত দেড় দশকের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প স্থাপন নিয়ে যতটা প্রচার হয়েছিল, সে ভাবে শিল্প আসেনি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তিন মাসের মধ্যে এখানে লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা পানীয় জল প্রকল্পটি উদ্বোধনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে তীব্র সঙ্কট রয়েছে পানীয় জলের। এই এলাকাগুলি ছাড়া এই প্রকল্পের জল পৌঁছবে পুরুলিয়া শহরেও।

ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল

জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা এই জল প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১,২৯৬.২৫ কোটি টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। যার মধ্যে ‘জাইকা’র ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। জাপানের সংস্থা ‘জাইকা’-র আর্থিক সহায়তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করেছে। মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীর থেকে জল তুলে ১.২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অন্য একটি জলাধারে আনা হবে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত সেই জল ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিবাহী নলের মাধ্যমে ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্কে পৌঁছবে। এই ট্যাঙ্কগুলি থেকে দৈনিক ৬ কোটি ৮০ লক্ষ লিটার জল পৌঁছে দিতে পাতা হয়েছে ১,৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন। রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি বলেন, ‘জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই কাজই করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার বাকি অংশে একই ভাবে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share