ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

election commission issues warning to blos for their work during sir in bengal now ceos can take action

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার (Bengal Government) যেভাবে পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ইসিআইয়ের নির্দেশ, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

কড়া ভাষায় চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ECI)

২১ জানুয়ারি তারিখে পাঠানো কড়া ভাষায় লেখা এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত মামলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ধরনের পরামর্শ বাধ্যতামূলক এবং এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ আইনের চোখে অবৈধ বলে গণ্য হবে (ECI)। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম সংক্রান্ত। তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এক নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।

সামান্য শাস্তি!

কমিশনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এএইআরও) সাময়িক বরখাস্ত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং চুক্তিভিত্তিক এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথাও বলা হয়েছিল। এই নির্দেশ জারি করা হয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর বিধানের ভিত্তিতে (Bengal Government)। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনকে (ECI) জানায় যে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রি আধিকারিক তথাগত মণ্ডলকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এএইআরও সুদীপ্ত দাসকে সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের বক্তব্য

তবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তগুলিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। ২১ জানুয়ারির চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দেয়, এক আধিকারিককে অব্যাহতি দেওয়া এবং অন্যজনকে সামান্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে করা হয়েছে, যদিও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে এ বিষয়ে পূর্বপরামর্শ প্রয়োজন (ECI)। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ৩১ মে জারি করা তাদের স্থায়ী নির্দেশিকার উল্লেখ করে জানায়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া বন্ধ বা চূড়ান্ত করার আগে ইসিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলেও মন্তব্য করেছে কমিশন (Bengal Government)।

প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ

রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে “প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ” এবং “আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন” বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সরাসরি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশিকা ও আইনানুগ পদ্ধতি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (ECI)। নির্বাচন কমিশনের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলি সাধারণ বিভাগীয় বিষয় নয়। রাজ্য সরকার ইচ্ছে মতো কমিশনকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করতে পারে না। এই মামলায় যুক্ত চার আধিকারিক—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস সকলের বিরুদ্ধে গৃহীত শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপের সম্পূর্ণ নথি নির্বাচন কমিশন চেয়েছে। পাশাপাশি, কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত (ECI) নেওয়ার জন্য দায়ী আধিকারিক বা দফতরের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে।

ইসিআই জানিয়েছে, এই নথি ও ব্যাখ্যাগুলি প্রয়োজনীয়, যাতে বোঝা যায় তাদের পূর্ববর্তী নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় আরও কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না (Bengal Government)। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি, রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলামূলক ফাইল হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন (ECI)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share