Ram Navami Clash: রামনবমী শোভাযাত্রাকে ঘিরে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, ছোড়া হল ইট-পাটকেল, দোকানে আগুন

Ram navami clash jangipur murshidabad

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে ফের ব্যাপক অশান্তি (Ram Navami Clash) তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। গত বছর অশান্তির আঁচ ছড়িয়েছিল হাওড়া এবং হুগলির কয়েকটি পকেটে। এবার শহর এবং শহরতলিতে তেমন কোনও অশান্তি না হলেও, হিংসার আগুনে জ্বলে উঠল মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জঙ্গিপুর। শোভাযাত্রায় পাথরবৃষ্টি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ (RAF)।

তপ্ত জঙ্গিপুর (Ram Navami Clash)

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল ৩টে নাগাদ রঘুনাথগঞ্জের জঙ্গিপুর পুরসভার ম্যাকেঞ্জি পার্কে রামনবমীর শোভাযাত্রা পৌঁছলে, শুরু হয় গোলমাল।  অভিযোগ, শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। তা নিয়েই আপত্তি তোলে এক পক্ষ। এর পরেই শুরু হয় দুপক্ষে বচসা। মুহূর্তের মধ্য়েই সংঘর্ষের রূপ নেয় বচসা। সেখান থেকে হাতাহাতি এবং ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি। খানিক পরে থামে অশান্তি। এগোতে থাকে শোভাযাত্রা। সিসাতলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফের একপ্রস্ত সংঘর্ষ হয়। উত্তেজনা চরমে ওঠে শোভাযাত্রা ফুলতলা মোড় এলাকায় পৌঁছলে। অভিযোগ, সেখানে প্রায় ২০০ দুষ্কৃতী শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এর পরেই উত্তেজিত জনতা এলাকার কয়েকটি ফলের দোকানে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।  খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছন মুর্শিদাবাদের ডিআইজি অজিত সিং যাদব। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। বেশ কিছু দোকান এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। চলছে ধরপাকড়ও।”

বিজেপির বক্তব্য

বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুবল চন্দ্র ঘোষ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই (Ram Navami Clash)।”  জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, “ফুলতলা মোড়ে আমি উপস্থিত ছিলাম। এই জাতীয় ঘটনা কাঙ্খিত নয়। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব প্রশাসনকে।” এদিনের সংঘর্ষে ১০জন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। দলের রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, “তৃণমূলের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের দশজন কর্মকর্তা জখম হয়েছে। তৃণমূল হারছে জেনেই এই হামলার ছক কষা হয়। এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে (Murshidabad)।”

কী বললেন সুকান্ত মজুমদার

বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজেপির সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘জঙ্গিপুরে এবার হয়তো এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে হাওড়ায় ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়, রামের অনুসারী লোকেদের বাদ দিয়ে…যেখানে রাবণ অনুসারী বা…এর পিছনে পুরোটা তৃণমূলের মদত আছে। যদি খোঁজা যায় তাহলে দেখা যাবে যারা ঢিল মারছে, তারা হয় তৃণমূলের নেতা, না হয় তৃণমূলের সমর্থক বা ভোটার। তার (Ram Navami Clash) বাইরে কাউকে খুঁজে পাবেন না।” গত বছর এপ্রিলে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদের সময় মুর্শিদাবাদেরই জাফরবাদ এলাকায় দুই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই ঘটনার জেরে সেই সময়ও অশান্ত হয়েছিল ‘নবাবের দেশ’। মুর্শিদাবাদবাসীর সেই দগদগে স্মৃতি এখনও ফিকে হয়ে যায়নি। তার মধ্যেই ফের একবার ঘটে গেল ব্যাপক অশান্তি। প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি (Murshidabad)।

রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয়েছে আগেও

গত বছর এবং তার আগের বছরেও রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেবার অবশ্য অশান্তির আগুন জ্বলেছিল হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন এলাকায়। সেবার বড় ধরনের কোনও অশান্তির খবর ছিল না মুর্শিদাবাদে।  এবার রাজ্যের অন্য কোথাও তেমন কোনও ঘটনা না ঘটলেও, অশান্তি ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদে। ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে ঘিরে অশান্তির জেরে সেবার খুন হতে হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই মৃৎশিল্পীকে। অশান্তির জেরে জেলা ছেড়ে রাতের অন্ধকারে নদী পার হয়ে মালদায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের হিন্দুদের একাংশ। সেই ঘটনার পর উত্তেজনা খানিক থিতু হলেও, ফের একবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল বঙ্গে (Murshidabad)। এবং সেটাও আবার সেই মুর্শিদাবাদেই (Ram Navami Clash)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share