SIR: এসআইআর, নয়া সফটওয়্যার তৈরি করে বাংলাই পথ দেখাল তামাম ভারতকে

Sir eci west Bengal india

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছিল এসআইআরের (SIR)। তার পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ (West Bengal) ১২টি রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণে’র এই প্রক্রিয়া। দেশের বাকি রাজ্যগুলিতেও এসআইআর হবে ধাপে ধাপে। যে রাজ্যগুলির শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন, সেই রাজ্যগুলিতেই শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর। তবে দেশের বাকি ১১টি (যেগুলিতে এসআইআর চলছে) রাজ্যে কোনও গন্ডগোলের খবর না মিললেও, শোরগোল হচ্ছে বাংলায়। আর তাই সকলের দৃষ্টি এখন নিবদ্ধ তৃণমূল পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিকে। এই পশ্চিমবঙ্গই এবার এমন এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে, যে কারণে দেশবাসী এ রাজ্যকে মনে রাখবে চিরদিন। এমন এক সফটওয়্যার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর যা নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে দেশের সব রাজ্যের কাছে রীতিমতো এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গে শেষ এসআইআর (SIR)

পশ্চিমবঙ্গে শেষ এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে। তখন ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছিল হাতে লিখে। আজকের মতো তখন ছিল না কোন প্রযুক্তি। তাই যা কিছু নির্বাচন কমিশনকে করতে হয়েছিল, তা কাগজ-কলমেই। যার ফলে ২৩ বছর পর যখন রাজ্যে ফের এসআইআর হচ্ছে, তখন রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে এ রাজ্যের সব স্তরের কর্মকর্তাদেরই। একদিকে ২৩ বছর আগের ভোটার তালিকা খুঁজে বের করা, অন্যদিকে সেই তালিকাকেই আবার ডিজিটাইজড করা। একেবারেই নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল রাজ্যের সব কর্তাদের বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্তাব্যক্তিদের। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক থেকে শুরু করে সব কর্তার কপালে যখন চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই দফতরেরই সিস্টেম ম্যানেজার ও তাঁর সহকর্মীরা বুদ্ধি খাটিয়ে তৈরি করেছিলেন এক বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার। যা নিমেষের মধ্যেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ডিজিটাল করে আপলোড করতে পেরেছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই।

চর্চার প্রধান বিষয়

আর এটাই এখন গোটা দেশে বড় চর্চার বিষয় (SIR)। তার কারণ পাঁচটি কোম্পানিকে ডাকা হয়েছিল এই ডিজিটাইজ করার কাজের জন্য। প্রত্যেকেই দর হেঁকেছিল কমবেশি সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই বিপুল টাকার বিনিময়ে তৈরি করে দেওয়ার চুক্তি একপ্রকার তৈরিও হয়ে গিয়েছিল। আর ঠিক তখনই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বাছাই করা কিছু কর্মী তৈরি (West Bengal) করে ফেললেন এই বিশেষ সফটওয়্যার। নির্বাচন কমিশন যেদিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তার কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে গেল অনলাইনের মাধ্যমে এসআইআরের ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ। নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের তৈরি এই বিশেষ সফটওয়্যার আজ রাজ্যের এসআইআরের কাজে সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে (SIR)।

পিকচার আভি বাকি হ্যায়…

তবে সুসংবাদটা এখানেই শেষ নয়, দেশের যে বাকি ১১টি রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছে, তারাও রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ এত দ্রুত সব কাজ করে ফেলছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া-সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্তা থেকে শুরু করে সিস্টেম ম্যানেজার সশরীরে এখানে এসে দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গিয়েছেন। শেষমেশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্মীদের তৈরি করা এই বিশেষ সফটওয়্যার কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটা যেমন তাঁরা দেখেছেন, পাশাপাশি এখান থেকেই তাঁরা তৈরি করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁদের রাজ্যের জন্য এই বিশেষ সফটওয়্যার যার মাধ্যমে তাঁরাও এখন দ্রুততার সঙ্গে করতে পারছেন এসআইআরের (SIR) কাজ।

গোখলের বক্তব্য

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহামতি গোপাল কৃষ্ণ গোখলে বলেছিলেন, “হোয়াট বেঙ্গল থিংকস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমোরো”। স্বাধীনতার ৭৭ বছর পরেও গোখেলের সেই উক্তি ফের প্রমাণ করল (West Bengal) গোটা দেশের মধ্যে বাংলাই এগিয়ে। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন এসআইআরের বিরোধিতা করছে, ঠিক তখনই সেই রাজ্য সরকারের কর্মীরাই এসআইআরের কাজ নির্ভুল এবং অনায়াস করতে এই বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করে গোটা দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের বক্তব্য

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনের দফতরের এক পদস্থ কর্তা জানান, এসআইআরের কাজের জন্য অনেক চাপ নিতে হচ্ছে তাঁদের সকলকেই। কিন্তু এত চাপের মধ্যেও তাঁদের দফতরের তৈরি করা এই বিশেষ সফটওয়্যার যখন দেশের অন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্মীরা ব্যবহার করছেন, সেটা মনে করলেই সব চাপ যেন নিমেষে উধাও হয়ে যাচ্ছে। শাসক থেকে বিরোধী এসআইআর (SIR) তরজায় যখন মজে তামাম রাজ্য, তখন এ যেন অন্য এক সুরে বাঁধা পড়তে চলেছে ২০২৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৈরি এই নয়া ভোটার তালিকা, যে তালিকা চিরকাল জ্বলজ্বল করবে ইতিহাসের পাতায় (West Bengal)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share