US Evangelist Sean Feucht: ভারতে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, দাবি মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের

Us evangelist sean feucht claims us govt is not very happy with india

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাই ভারত (India) থেকে তিনি তড়িঘড়ি চলে যেতে বাধ্য হন। অন্তত, এমনই দাবি করেছেন মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক শন ফয়েখ্ট (US Evangelist Sean Feucht)। তাঁর অভিযোগ, ভারতে তাঁর কার্যকলাপ নজরদারির আওতায় ছিল এবং ধর্মীয় রূপান্তর সংক্রান্ত ভিসা নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে। ফয়েখ্ট সম্প্রতি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলায় “জায়ন সেন্টার” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনে অংশ নিতে। অনুষ্ঠানটির ছবি ও পোস্ট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই কেন্দ্রটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে বড় আকারে প্রার্থনা ও ধর্মপ্রচারমূলক কার্যকলাপ চলছিল বলে খবর।

পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার (US Evangelist Sean Feucht)

বেঙ্গালুরুর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (FRRO) দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়েখ্ট পর্যটক ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। যদিও তিনি প্রচার, ধর্মীয় বক্তব্য দান এবং ধর্মান্তর কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। ভারতীয় ভিসা নিয়ম অনুযায়ী, পর্যটক ভিসায় বিদেশি নাগরিকদের ধর্মান্তর, উপদেশ প্রদান বা মিশনারি কার্যকলাপ চালানোর অনুমতি নেই। কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করেননি যে, তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। আইনজ্ঞরা জানান, মিশনারি ভিসায়ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকে এবং সংগঠিত ধর্মান্তর অভিযান বা প্রচার কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হয় না।

মার্কিন ধর্মপ্রচারকের দাবি

বিতর্ক বাড়তে থাকায় ফয়েখ্ট দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে যান। তবে যাওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজেকে নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরেন। কয়েকদিন পরেও তিনি সেই একই দাবি জানান। স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি দাবি করেন, ভারতে খ্রিস্টানরা নিরাপদ নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতে খ্রিস্টানদের (US Evangelist Sean Feucht) ওপর ‘নিপীড়ন’ চলছে। এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, কঠোর ধর্মান্তরবিরোধী আইন কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে, যার মধ্যে দীর্ঘ কারাদণ্ডও রয়েছে। তিনি আরও জানান, আমেরিকার সরকার ভারতকে নিয়ে খুব সন্তুষ্ট নয়। তাঁর ইঙ্গিত, মার্কিন আইনপ্রণেতারা তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। অবশ্য এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। অনলাইনে শেয়ার করা কিছু স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, তিনি ভারতে অবস্থানরত ‘পাস্টরদের’ মতামত তুলে ধরে দাবি করেন, খ্রিস্টানরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রকাশ্যে শেয়ার করা ব্যক্তিগত বার্তায় তিনি পরিস্থিতিকে “ব্যাপক নিপীড়ন” বলে বর্ণনা করেছেন এবং জনগণের সমর্থন চেয়েছেন।

ভারতীয় আইন

প্রসঙ্গত, ভারতীয় আইন স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করে না, তবে জোরপূর্বক, প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন রয়েছে, যেখানে “গণধর্মান্তর” বা দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ধর্মান্তরের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ফয়েখ্ট “নিপীড়ন” হিসেবে ঘটনাকে তুলে ধরার মাধ্যমে ভিসা নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাইছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের বর্ণনা প্রশাসনিক নিয়ম প্রয়োগকে মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে, যার (India) ফলে নজরদারি ছাড়াই মিশনারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে (US Evangelist Sean Feucht)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share