Abhishek Banerjee: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক, তাঁর জন্যই দল ভাঙছে”, বিস্ফোরক অভিযোগে TMC সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী

abhishek banerjee is a dictator the party is collapsing because of him explosive allegations as state minority cell secretary ajmal siddiqui resigns from tmc

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হলো। এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র ও চরম দুর্নীতির অভিযোগ এনে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে পদত্যাগ করলেন দলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী। শনিবার তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ‘একনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

হজ যাত্রা শেষ করে মাত্র দুদিন আগেই কলকাতায় ফিরেছেন আজমল সিদ্দিকী। ফিরে এসেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই সংখ্যালঘু নেতা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

“একজনের অহংকারেই দল ধ্বংস হচ্ছে (Abhishek Banerjee)

পদত্যাগ করার পর সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন আজমল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “আজ তৃণমূল কংগ্রেস যদি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী শুধুমাত্র একজন মানুষ— তিনি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং আমাদের ওপর চালানো দমনপীড়ন আর সহ্য করা যাচ্ছিল না। ১২-১৩ বছর পুরনো মিথ্যে মামলা (TMC) দিয়ে আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে, টাকা দাবি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অসহনীয়।”

নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত

তৃণমূলে (TMC) এখন আর কোনও কাজ করার পরিবেশ নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, “হজ থেকে ফেরার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এই দল এখন কেবলই কলঙ্ক বয়ে আনছে। দলের অধিকাংশ সদস্যই নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে, ভবিষ্যতে আরও আসবে। এই দলে থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল, কারণ মানুষের জন্য এখানে কোনও প্রকৃত কাজ হচ্ছে না।”

তোষামোদকারীদের গুরুত্ব, ব্রাত্য যোগ্যরা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে আজমল সিদ্দিকী উল্লেখ করেছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে দলে একনায়কতন্ত্র (TMC) কায়েম হয়েছে এবং দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্রমাগত কোণঠাসা করা হচ্ছে। দলীয় স্তরে যোগ্যতার কোনো মূল্যায়ন নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এটি এখন শুধু নামেই একটি দল, এখানে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করা অসম্ভব। যারা কেবল তোষামোদ বা চাটুকারিতা করে ওপরে উঠেছে, তারাই এখন দলে রাজত্ব করছে। তৃণমূলের যে গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল, যেখানে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকত, তা এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত (Abhishek Banerjee)।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা

তৃণমূল ছাড়ার পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে অবশ্য এখনই খোলসা করতে চাননি আজমল। তিনি (Abhishek Banerjee) জানান, “ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বাংলার উন্নয়ন—রাজ্যে শিল্প আসুক, গরিব মানুষের কর্মসংস্থান হোক, এটাই আমরা চাই।”

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের (TMC) অন্দরে যে চরম বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, আজমলের পদত্যাগ তাকে আরও উস্কে দিল। এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় পৃথক বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের এই হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ জোড়া-ফুল শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share