মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বঙ্গে শুরু হয়ে যাবে প্রথম দফার নির্বাচন। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট হবে চলতি মাসেরই ২৯ তারিখে (WB Assembly Election 2026)। ২৩ তারিখে প্রথম দফায় ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। এই দফায় ভোট হবে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং রাঢ় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এদিন নির্বাচন হবে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের ৯টি আসন, আলিপুরদুয়ারের ৫টি, জলপাইগুড়ির ৭টি, কালিম্পঙের ১টি এবং দার্জিলিঙের (Candidate List) ৫টি আসনে। দুই দিনাজপুরের যথাক্রমে ৯টি (উত্তর) ও ৬টি (দক্ষিণ) আসন, মালদার ১২টি আসনেও ভোট হবে।
কোথায় কোন হেভিওয়েট (WB Assembly Election 2026)
দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার সব আসনেও ভোট হবে এদিন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক প্রথম দফার নির্বাচনে কোন কোন হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে। এই তালিকায় রয়েছেন নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী, খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, মাথাভাঙায় বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রমাণিক, রেজিনগর ও সুতিতে (WB Assembly Election 2026) জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর, দিনহাটায় তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ, শিলিগুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব এবং বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। মালতিপুরে কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর, আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল, হাসনে তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ, সবংয়ে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইঞা, এগরায় বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী, করণদিঘিতে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ শাহাবউদ্দিন, রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী, বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ, রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্ন বর্মণ, রানিবাঁধে সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রম, সাগরদিঘিতে তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস, দার্জিলিংয়ে নির্দল প্রার্থী অজয় এডওয়ার্ডস, ডোমকলে তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর, ডেবরায় তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, কেশপুরে তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা, জাঙ্গিপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং বোলপুরে তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা। সিপিএমের তরফে এবার প্রার্থী করা হয়েছে এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীকে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন (Candidate List) উত্তরপাড়া কেন্দ্রের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধর এবং মহেশতলায় সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা (WB Assembly Election 2026)।
সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্র নন্দীগ্রাম
এদিকে, রাজ্যের সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্রে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র কর। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবেই পরিচিত এই কেন্দ্র। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীকে গোহারা হারাতেই ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। এদিকে, উত্তরবঙ্গের একটি কেন্দ্রেও দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে রয়েছে তামাম বাংলা। একুশের নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্যকে পরাজিত করেছিলেন বিজেপির শঙ্কর ঘোষ। অথচ, একসময় অশোকের সঙ্গেই সিপিএম করতেন শঙ্কর। পরে দল বদলে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সেবার লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্র। শঙ্কর পেয়েছিলেন ৫০ শতাংশ ভোট। ঘাসফুল প্রার্থীর ঝুলিতে পড়েছিল ৩০.১১ শতাংশ ভোট। গতবারের এই ফারাক মিটিয়ে জয় পাওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য গৌতম দেবের। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার বেশ কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র (WB Assembly Election 2026)।
শক্তিশালী বিজেপি
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে সাংগঠনিকভাবে রাজ্যের অন্য জায়গার থেকে বেশ শক্তিশালী বিজেপি। প্রথম দফার নির্বাচনে যত বেশি সম্ভব আসনে জয় পাওয়াই লক্ষ্য পদ্ম শিবিরের। এদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ছুটে গিয়েছেন উত্তরবঙ্গে। তবে তাতে যে আদতে কিছু লাভ হবে, তা মনেই করছেন না নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এবারও উত্তরবঙ্গে একচেটিয়া খেলবে বিজেপি। তৃণমূলের অবস্থা হবে মা লক্ষ্মীর পায়ের কাছে থাকা পেঁচার মতো (WB Assembly Election 2026)।
বাহিনী মোতায়েন কত
২০০১ সালে শেষবার রাজ্যে এক দফায় হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচন। এত কম দফায় আর কখনও বিধানসভা নির্বাচন হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের ২ দফার নির্বাচন অনেক বেশি (Candidate List) সংক্ষিপ্ত এবং দ্রুত সম্পন্ন হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তবে মুর্শিদাবাদ জেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে কমিশন। এক, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা। দুই, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা। দুই মিলিয়ে মুর্শিদাবাদে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে ৩১৬ কোম্পানি। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায়ই থাকবে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। বাকি ৭৬ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় (WB Assembly Election 2026)।
তার পরেও বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন বিনা রক্তপাতে হয় কিনা, এখন তা-ই দেখার।

Leave a Reply