Sabuj Sathi Corruption: ‘পরিবারের আত্মীয়রা সাইকেলের যন্ত্রাংশ একত্রীকরণ করত’! তৃণমূল জমানার ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতি নিয়ে সরব শুভেন্দু

sabuj sathi corruption cm suvendu adhikari attacks mamata Banerjee govt launch upgraded cycle

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিনরাজ্য থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে রাজ্যে সেসব একত্রিকরণ করা হত। তারপর সেই সাইকেল তুলে দেওয়া হত পড়ুয়াদের হাতে। সেই সাইকেলের (Sabuj Sathi Corruption) গুণমান নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন উঠত। ওই কাজেও বরাত পেত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তোষামোদকারীরা। পড়ুয়াদের দেওয়া ওইসব সাইকেলের কলকব্জা সহজেই খুলে যেত, এমনও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যে বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হত স্কুল পড়ুয়াদের। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ‘সবুজ সাথী’ নাম বদলে ‘সারথি’ করা হয়েছে। সেই সারথি প্রকল্পে সাইকেল বিতরণে এসে হাওড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে এবার থেকে সারথি প্রকল্পে আরও উন্নতমানের সাইকেল দেওয়া হবে। যারা এই সাইকেল রাজ্যে তৈরি করবে, তাদের জমি দেওয়া হবে।

‘সবুজ সাথী’তেও দুর্নীতি

তৃণমূল আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Suvendu Attacks Mamata) জেলা সফরে গিয়ে সরকারি মঞ্চ থেকে ‘সবুজ সাথী’তে পড়ুয়াদের সাইকেল দিতেন। সেই সাইকেলের গুণমান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্নও উঠেছে। বহু সময় দেখা যেত বহু সংখ্যায় সরকারি প্রকল্পের সাইকেল পড়ে রয়েছে কোনও বন্ধ ঘরে। সেইসব সাইকেলে জং পড়ে যেত দীর্ঘদিন ওভাবে থাকার কারণে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই সরকারি প্রকল্পের নাম ‘সবুজ সাথী’ থেকে ‘সারথি’ রাখা হল। হাওড়ার এক স্কুলে এই প্রকল্পে সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। সেখানেই প্রাক্তন সরকারকে এই ইস্যুতে আরও একবার বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “পাঞ্জাব থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আনা হত। এখানে এনে সেসব একত্রিকরণ করা হত। প্রাক্তন সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিক, তাঁর পরিবারের আত্মীয়রা সেই কাজটি করত। সেই জায়গা থেকে এটাকে বার করে এনেছি।” তাহলে কি তৃণমূল জমানার ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতির প্রসঙ্গও উসকে গেল বক্তব্যে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের কারা এই প্রকল্পে বরাত পেতেন? পাঞ্জাবে কাদের থেকে ওই সাইকেলের যন্ত্রাংশ আসত? অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ও জড়িয়ে আছে এই নিশানায়? সেসব প্রশ্ন উঠছে।

পড়ুয়ারা পাবে উন্নতমানের সাইকেল

বিজেপি সরকারের আমলে আরও ভালো, উন্নতমানের সাইকেল পড়ুয়াদের দেওয়া হবে। সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নতুন নাম ‘সারথি’ এবং তার নতুন লোগো উন্মোচন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ দিন নবম শ্রেণির ১২ লক্ষ ৫৯ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে সাইকেল বিতরণের কর্মসূচির সূচনা করে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের সরকারের চালু করা প্রকল্প বন্ধ করা তাঁদের লক্ষ্য নয়; বরং তার ত্রুটিগুলি শুধরে সামগ্রিক গুণগত মান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করাই রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

বাংলাতেই তৈরি হবে উন্নতমানের সাইকেল!

বাংলাতেই আগামী দিনে আরও উন্নতমানের এই সাইকেল তৈরির ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আগামী দিনে আমরা চেষ্টা করব, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা যারা তৈরি করবে তাঁদেরকে জমিও দেব, তাঁদের থেকে সাইকেলও কিনব।” এদিন পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “১৫ বছর আগেও সীমিত পরিসরে এসসি, এসটি ও সংখ্যালঘুদের জন্য এই স্কিম চালু ছিল। তবে আগের জমানায় পাঞ্জাব থেকে সাইকেলের খুচরো যন্ত্রাংশ এনে এখানে একত্রীকরণ করা হত। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তৎকালীন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের আত্মীয়েরা সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা সেই চক্র ভেঙে বের করে এনেছি। এ বার ফ্রেঞ্চ, ফর্ক, মাডগার্ড ও টায়ার তিন স্তরে গুণমান পরীক্ষা করে নিরাপদ সাইকেল তুলে দেওয়া হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতিকে পাথেয় করে আগামী দিনে রাজ্যেই সাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সংস্থাকে জমি দেওয়া ও সরকারের সাইকেল কেনার চুক্তিও করা হবে।

রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নয়ন মূলক প্রকল্প

কন্যারত্নে ভাতা বৃদ্ধি: গত ১৪ অগস্ট ‘কন্যারত্ন দিবসে’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সাল থেকে ছাত্রীদের বার্ষিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে। এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও ‘সারথী’ সাইকেল দেওয়া হবে।

স্মার্ট স্কুল ও পরিকাঠামো: চলতি শিক্ষাবর্ষে ৬০০টি অনুমোদিত এবং আরও ২০০টি প্রস্তাবিত-সহ মোট ৮০০টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। বিগত সরকার ৩ বছর যে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ বন্ধ রেখেছিল, বর্তমান সরকার এসে ৮০ হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে এক লপ্তে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

খাতা, পোশাক ও নিয়োগ: নিম্নমানের খাতার কাগজ এবং ব্যাগ বদলানোর পাশাপাশি স্কুলের পোশাকের রঙ ও ব্র্যান্ড নির্বাচন করার চূড়ান্ত অধিকার স্কুলের হাতেই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শিক্ষক-সংকট মেটাতে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) প্রথম ধাপে ১০ হাজারের বেশি নির্ভেজাল ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বলে জানান শুভেন্দু।

মিড-ডে মিল ও রাঁধুনীদের বেতন: প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের পুষ্টি বাড়াতে বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। কলকাতায় ইসকনের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে দেওয়া শুদ্ধ পুষ্টিকর আহার আগামী এক মাসের মধ্যে ২.৪৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ হওয়ায় এসএইচজি (SHG) গ্রুপের মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন সিদ্ধ ডিম সরবরাহের বিকল্প ব্যবসাও চালু রাখা হয়েছে। রাঁধুনীদের চাকরি যাওয়ার বিভ্রান্তি উড়িয়ে তাঁদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে।

ভারতীয় সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান

পড়ুয়াদের স্রেফ পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেড রোডে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “১৯৪৭ সালের ২০ জুন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের প্রচেষ্টায় আমরা মাতা ভারতীর কোলে পশ্চিমবঙ্গ হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলাম। ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের কণ্ডারীদের এই ইতিহাস জানা জরুরি।” স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মাধুর্য বজায় রাখা, বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, ড্রয়িং এবং খঞ্জনি, মৃদঙ্গ, তবলা ও গিটারের মতো সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। আগামী দিনে আরও বেশি স্কুলে এনসিসি (NCC) চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share