BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

Bjp fact checks tmcs president standing photo attack on pm modi

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একটি দাবিকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা সেটির সত্যতা যাচাই করে পাল্টা জবাব দেয়।

তৃণমূলের দাবি (BJP Fact Checks)

রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূল একটি ভিডিও-সহ পোস্টে দাবি করে, “প্রধানমন্ত্রী বারবার রাষ্ট্রপতির পদকে সম্মান করার বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই ছবিটি ভালো করে দেখুন। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী আরামে চেয়ারে বসে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মানের সব দাবি তখনই ফাঁপা মনে হয়, যখন এমন দৃশ্য তাঁর পদকে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।” ভিডিওতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে—যিনি একজন নারী এবং একজন আদিবাসী নেতা—সম্মান করেন? তাহলে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর আপনি বসে আছেন কেন? আমি আপনাদের সবাইকে দেখালাম, আমরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি, কিন্তু তারা করে না। এই ছবিই প্রমাণ করে কে সম্মান করে, আর কে করে না।”

বিজেপির জবাব

এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “টিএমসির ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি আবার সক্রিয়। টিএমসির তৈরি করা ক্ষোভের আসল সত্য হল, ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের সময় সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, পুরস্কার প্রদান চলাকালীন উপস্থিত অন্যরা বসে থাকেন। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তারা আরও বলে, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতরত্ন এলকে আডবাণীকে ঘিরে একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনৈতিক লাভের জন্য বিকৃত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা রক্ষা করুন এবং ভুয়ো তথ্য ছড়াবেন না।” এ কথা বলার সময় বিজেপি প্রায় দু’বছরের পুরানো একটি ভিডিও-ও শেয়ার করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ ২০২৪-এ, যখন রাষ্ট্রপতি মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী মোদি এলকে আডবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করেন।

রাষ্ট্রপতির উষ্মা

শনিবার রাষ্ট্রপতি দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলে শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত উপস্থিত থেকে স্বাগত জানানো, এবং অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল বদল হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তবে তারিখ নির্ধারিত থাকায় আমি এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। তিনি কেন অসন্তুষ্ট, তা আমি জানি না।” অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এও বলেন, “আমি জানি না কেন রাজ্য প্রশাসন সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়নি। আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। হয়তো রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না!”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যাঁরা গণতন্ত্র ও আদিবাসী সমাজের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই হতাশ। নিজে আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশ করা বেদনা ও ক্ষোভ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।” ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাষ্ট্রপতির সফরে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুষ্ঠানস্থলের দুর্বল প্রস্তুতি সম্পর্কে রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতির দফতরকে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share