Encroachment Row: নেপালের দখলদারি ‘বিতর্ক’, কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই, সাফ জানাল ভারত

India rejects third party role Nepal balendra shah encroachment row

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় মোকাবিলার জন্য দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে, এবং এই ধরনের বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই (Encroachment Row)। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের মন্তব্যের জবাবে এমনই জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নেপালি প্রধানমন্ত্রীর দাবির প্রেক্ষিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানান (Balendra Shah)। বলেন্দ্র দাবি করেছিলেন, সীমান্ত সমস্যা একটি জটিল বিষয়। যেখানে ভারত ও নেপাল উভয়ই একে অপরের কিছু ভূখণ্ড নিজেদের দখলে রেখেছে, এবং তিনি ব্রিটেন ও চিনের মতো দেশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন।

ভারতের প্রতিক্রিয়া (Encroachment Row)

নেপালের ক্ষমতায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (RSP)। এই দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানের ভারত সফরের সময়ই এই প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। লামিছানে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জয়সওয়াল বলেন, “সীমান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এটি পরিষ্কার হওয়া উচিত যে ভারত ও নেপালের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই।”

বলেন্দ্রর বক্তব্য

প্রসঙ্গত, রবিবারই নেপালের সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন্দ্র বলেছিলেন, “আপনারা জেনে অবাক হবেন যে আমি সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই একটি বিষয় জানতে পেরেছি। শুধু ভারতই নেপালের ভূখণ্ড দখল করেনি, বরং নেপালও বহু জায়গায় ভারতের ভূখণ্ড দখল করে রয়েছে। এখন উভয় দেশের উচিত তথ্য যাচাই করা, বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে বসা এবং সমস্যার সমাধান করা (Encroachment Row)।”

কী বলছে বিদেশমন্ত্রক

নেপালি প্রধানমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের জবাবে জয়সওয়াল টেনে আনেন ভারত-নেপাল সীমান্তের অংশ গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। তবে এখনও কিছু অংশের সমাধান বাকি।” সীমান্ত সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এছাড়া, সীমান্তের নির্ধারিত অংশে সীমান্ত অতিক্রম করে দখল এবং ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ অনুপ্রবেশের কিছু ঘটনা রয়েছে। এগুলি বর্তমানে যৌথভাবে ম্যাপিং করা হচ্ছে।”

উষ্ণ অভ্যর্থনা

এদিকে, ভারতের আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে আসা লামিছানে দ্বিতীয় দিনেও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন। সোমবার দিল্লিতে পৌঁছলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার তিনি সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্করের সঙ্গে। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের আলোচনা উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হয়েছে। এগুলি প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Encroachment Row)।”

‘বলেন্দ্র-বিধি’

মনে রাখতে হবে, লামিছানের এই সফর বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির নির্ধারিত নেপাল সফর বাতিল হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গররাজি ছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে নেপালের ক্ষমতায় আসে আরএসপি। প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন র‍্যাপার বলেন্দ্র। তিনি একটি নিয়ম চালু করেছেন। এই নীতি অনুযায়ী,  তিনি বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না, কেবল সাক্ষাৎ করেন রাজনৈতিক সমপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে (Balendra Shah)। এর আগে বলেন্দ্র দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেছিলেন। মে মাসে কাঠমান্ডু সফরে গিয়েছিলেন ওই মার্কিন বিশেষ দূত (Encroachment Row)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share